সাধারণ জ্ঞান "বাংলা সাহিত্য" বিসিএস এবং সরকারী চাকুরীর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি - ৯

সাধারণ জ্ঞান "বাংলা সাহিত্য" বিসিএস এবং সরকারী চাকুরীর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি - ৯
১. Ballad কী?
[ক] লোকগীতি
[খ] লোকগাথা
✅ গীতিকা
[ঘ] গাথা

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 Ballad-কে বাংলায় বলা হয়- ‘গীতিকা’ যা আখ্যানধর্মী লোকসাহিত্য।
🔶 Ballad-এর প্রধান গুণ- নাটকীয়তা ও সংলাপধর্মিতা।
🔶 Ballad-এর বিষয়বস্তুতে থাকে- একটিমাত্র ঘটনা বা সঙ্কটপূর্ণ কাহিনী।
🔶 Ballad-কে বলে- রাশিয়ায় byliny, সেঙনে romances, ডেনমার্কে viser, ইউক্রেনে dumi, সাইবেরিয়ায় Junacka pesme ইত্যাদি।
🔶 বাংলাসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য Ballad- নাথ গীতিকা, ময়মনসিংহ গীতিকা ইত্যাদি।

২. ‘শাহনামা’ মৌলিক গ্রন্থটি কার?
[ক] মালিক জয়সী
✅ ফেরদৌসী
[গ] সৈয়দ হামজা
[ঘ] কাজী দৌলত উজির বাহরাম খাঁ

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 গজনির অধিপতি সুলতান মাহমুদের রাজসভার কবি আবুল কাসিম মনসুর ফেরদৌসী রচনা করেন- ইরানের বিখ্যাত মহাকাব্য ‘শাহনামা’।
🔶 মহাকাব্যটিতে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের প্রশস্তি বর্ণনা করলেও মুখ্য বিষয় ছিল- ইরানের বীর ও বাদশা-সম্রাটদের কাহিনী।
🔶 ইরানিদের জাগরণের জয়গান সমৃদ্ধ মহাকাব্যটি রচিত হয়েছে- দীর্ঘ ত্রিশ বছর কঠোর পরিশ্রমে।

৩. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম-
[ক] বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
✅ বাংলা সাহিত্যের কথা
[গ] বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস
[ঘ] বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
বাংলা সাহিত্যের কথা
🔶 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থ- ‘বাংলা সাহিত্যের কথা’ (১ম খন্ড ১৯৫৩, ২য় খন্ড ১৯৬৫)।
🔶 তার রচিত গবেষণা ও ভাষাতত্তব বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৬৫), ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১) ইত্যাদি।
🔶 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
🔶 লেখকের অনুবাদ গ্রন্থ- ‘শিক্ওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিক্ওয়াহ’।
🔶 ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি’-উক্তিটি- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর।
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
🔶 ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ গ্রন্থটি লিখেছেন- ড. দীনেশচন্দ্র সেন।
বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস
🔶 ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (প্রবন্ধ/৪ খন্ড) গ্রন্থটি লিখেছেন- ড. কাজী দীন মুহম্মদ।
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
🔶 ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ (প্রবন্ধ) লিখেছেন- মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান যৌথভাবে।

8. ‘চৌ-হদ্দি’ শব্দটি কোন কোন ভাষার শব্দ মিলে রয়েছে?
[ক] বাংলা + ফারসি
[খ] সংস্কৃত + ফারসি
✅ ফারসি + আরবি
[ঘ] সংস্কৃত + আরবি

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 ‘চৌ-হদ্দি’ হলো- চৌ + হদ্দ।
🔶 ‘চৌ’ অংশটুকু সংস্কৃত এবং ‘হদ্দ’ অংশটুকু আরবি ভাষার শব্দ। সংস্কৃত ‘চৌ’ অর্থ- চার ‘হদ্দ’ অর্থ সীমানা।
🔶 সুতরাং চৌ-হদ্দি শব্দের অর্থ- চতুঃসীমা। যেমন- বাড়ি বা জমির চৌহদ্দি।

৫. ‘রুপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর’ কার রচনা?
✅ চন্ডিদাস
[খ] জ্ঞানদাস
[গ] বিদ্যাপতি
[ঘ] লোচনদাস

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 চৈতন্য পরবর্তী বৈষ্ণব পদাবলীর কবি জ্ঞানদাস (ষোড়শ শতাব্দী) রচিত কৃষ্ণানুরাগ বিষয়ক বিখ্যাত পদ- ‘রুপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর’ পঙক্তিটি।
🔶 তার রচিত পদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য; মাধুর্য ও সূক্ষ্মতা তুলনা হতে পারে- একমাত্র চন্ডীদাসের পদের সাথেই।
🔶 তিনি অসাধারণ কৃতিতব প্রদর্শন করেন- আক্ষেপানুরাগ, রূপানুরাগ ও মাথুরবিষয়ক পদ রচনায়।
🔶 বাংলা ও ব্রজবুলি কিংবা এ দুয়ের মিশ্র ভাষায় তিনি গভীর শিল্পবোধের পরিচয় প্রদান করেন- রাধার তপস্বিনীভাব, অতৃপ্ত প্রণয়াকাংক্ষার তীব্র জ্বালা, মিলনের জন্য ব্যাকুলতা, মিলনের গভীর উল্লাস ও বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি চিত্রণে।

৬. ‘সাজাহান’ নাটকের প্রথম রচয়িতা কে?
[ক] ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ
[খ] তুলসী লাহিড়ি
✅ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
[ঘ] বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 ১৯০৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়- দ্বিজেন্দ্রলাল (১৮৬৩-১৯১৩) রচিত ‘সাজাহান’ নাটকটি।
🔶 একটি ঐতিহাসিক নাটক- ‘সাজাহান’।
🔶 দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত অন্যান্য ঐতিহাসিক নাটক- নূরজাহান (১৯০৮), প্রতাপসিংহ (১৯০৫), সিংহল বিজয় (১৯১৬) ইত্যাদি।

৭. ‘নেমেসিস’ নাটকে নুরুল মোমেন কোন বিষয়কে তুলে ধরেছেন?
✅ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
[খ] ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর
[গ] বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
[ঘ] একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর
🔶 বিশিষ্ট নাট্যকার নূরুল মোমেন (১৯০৬-১৯৮৯) ‘নেমেসিস’ (১৯৪৮) নাটকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন- ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তরকে।
🔶 তিনি খ্যাতি অর্জন করেন- সামাজিক সংকটের পটভূমিকায় অন্তর্দ্বন্দ্বমূলক নাট্য-চরিত্র অংকন করে।
🔶 লেখকের এরূপ কিছু নাটক- ‘রূপান্তর’ (১৯৪৭), ‘আলোছায়া’ (১৯৬২) ইত্যাদি।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
🔶 ‘বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন’-এর পটভূমিতে রচিত হয়- ‘কবর’ (মুনীর চৌধুরী), বায়ান্নোর জবানবন্দী (এম. আর আখতার মুকুল) ইত্যাদি।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
🔶 একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হয়েছে- বহু সাহিত্যকর্ম, যেমন- আরেক ফাল্গুন (জহির রায়হান), আগুনের পরশমণি (হুমায়ুন আহমেদ), আমি বিজয় দেখেছি (এম. আর. আখতার মুকুল) ইত্যাদি।

৮. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর কোন রাজসভার কবি?
[ক] আরাকান রাজসভা
✅ কৃষ্ণনগর রাজসভা
[গ] রাজা গণেশের রাজসভা
[ঘ] লক্ষণ সেনের রাজসভা

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যধারার শ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ কবি- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
🔶 তিনি ছিলেন- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।
🔶 ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে রচনা করেন- ‘অন্নদামঙ্গল’ (১৮১৬) কাব্য।
🔶 রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে প্রদান করেন-‘রায়গুণাকর’ উপাধি।
🔶 তার গুরুতবপূর্ণ রচনা- অন্নদামঙ্গল, বিদ্যাসুন্দর, রসমঞ্জরী, সত্যপীরের পাঁচালি, নাগাস্টক ইত্যাদি।

৯. ‘যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’ - এখানে ‘হারায়’ কোন ধাতু?
[ক] প্রযোজ্য ধাতু
[খ] ভাববাচ্যের ধাতু
[গ] সংযোগমূলক ধাতু
[ঘ] নাম ধাতু

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
সঠিক উত্তর নেই।
🔶 সঠিক উত্তর- প্রযোজক ধাতু।
🔶 মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থ (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) ‘আ’ প্রত্যয় যোগ করে যে ধাতু গঠিত হয় তাকেই বলা হয়- প্রযোজক বা নিজন্ত ধাতু বা কখনও কখনও কর্মবাচ্যের ধাতু।
নাম ধাতু
🔶 নাম ধাতু হলো- বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পরে ‘আ’ প্রত্যয় যোগে গঠিত ধাতু।
সংযোগমূলক ধাতু
🔶 সংযোগমূলক ধাতু হলো- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সাথে কর্, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতুর সংযোগে গঠিত ধাতু। যেমন- ঘুম (বিশেষ্য) + আ+ ক্রিয়া বিভক্তি = ঘুমাচ্ছে (নাম ধাতু) যোগ (বিশেষ্য) + কর (ধাতু) = যোগ কর (সংযোগমূলক ধাতু)।

১০. ‘মহুয়া’ পালাটির রচয়িতা-
✅ দ্বিজ কানাই
[খ] মনসুর বয়াতী
[গ] নয়নচাঁদ ঘোষ
[ঘ] দ্বিজ ঈশান

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 ‘মহুয়া’ পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
🔶 ময়মনসিংহের পূর্বাঞ্চল থেকে সংগৃহীত একটি পালা গান- মহুয়া।
🔶 এটি রচিত- বেদে সর্দার হোমরার পালিত কন্যা মহুয়া ও বামন কান্দার তরুণ জমিদার নদের চাঁদের প্রণয় সম্পর্ক ও তার বিষাদময় পরিণতি অবলম্বনে।
🔶 দ্বিজ কানাই প্রণীত এই পালা সংগ্রহ করেন- চন্দ্রকুমার দে এবং পরবর্তীতে তা ময়মনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

১১. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ খোলা হয়-
[ক] ১৮০০ সালে
✅ ১৮০১ সালে
[গ] ১৮০২ সালে
[ঘ] ১৮০৪ সালে

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু করা হয়- ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে।
🔶 উইলিয়াম কেরি এ বিভাগের প্রধান অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িতব গ্রহণ করেন- ১৮০১ সালের ৪ মে।
🔶 কোম্পানি বাংলায় কর্তৃতব প্রতিষ্ঠা করার পর প্রশাসন চালাতে এ দেশী ভাষাজ্ঞান, সাহিত্য, সমাজ, ইতিহাস ইত্যাদি জানার প্রয়োজন অনুভব করে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করে- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ আগস্ট।
🔶 এর প্রধান কাজ ছিল- কোম্পানির তরুণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দান।
🔶 এ কলেজটি বন্ধ হয়ে যায়- ১৯৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি।

১২. কে সর্বপ্রথম বাংলা টাইপ সহযোগে বাংলা ব্যাকরণ মুদ্রণ করেন?
[ক] স্যার উইলিয়াম জোনস
[খ] স্যার উইলিয়াম কেরি
[গ] রাজীব লোচন মুখোপাধ্যায়
✅ ব্রাসি হ্যালহেড

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগিজ পাদ্রি মানো এল দা আসসুম্পসাঁও পর্তুগিজ ভাষায় একটি বাংলা ব্যাকরণ ও একটি পর্তুগিজ বাংলা শব্দকোষ প্রণয়ন করেন, যা ছিল- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ ও শব্দকোষ।
🔶 পরবর্তীতে ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড নামক ইংরেজ পন্ডিত ইংরেজি ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন- 'A Grammar of the Bengal Language' নামে।
🔶 এ গ্রন্থ মুদ্রণে ব্যবহৃত হয়- সর্বপ্রথম ধাতুতে খোদাই বাংলা হরফ।
🔶 বাংলা হরফে মুদ্রণ করা হয়েছিল- গ্রন্থটির আংশিক।

১৩. ‘তত্তববোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
[ক] ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
✅ অক্ষয়কুমার দত্ত
[গ] প্যারিচাঁদ মিত্র
[ঘ] বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
অক্ষয়কুমার দত্ত
🔶 ‘তত্তববোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- অক্ষয়কুমার দত্ত।
🔶 সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, রাজনীতি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ‘তত্তববোধিনী’ পত্রিকাটি যাত্রা শুরু করে- ১৮৪৩ সালে।
🔶 অক্ষয়কুমার দত্ত ব্রাহ্মসমাজ ও তত্তববোধিনী পত্রিকা পরিত্যাগ করেন- ১৮৫৫ খ্রি.।
🔶 তত্তববোধিনীকে একটি মুদ্রণযন্ত্র দান করেন- রামমোহন রায়ের পুত্র রাধাপ্রসাদ রায়।
🔶 তত্তববোধিনী পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে- ১৯৩২ খ্রি. পর্যন্ত।
🔶 এর অন্যান্য সম্পাদকগণ হলেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নবীনচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন প্রমুখ।
🔶 ১৮৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত তত্তববোধিনী সভা কর্তৃক প্রকাশিত এ পত্রিকার মাধ্যমেই সমাজে সূচনা হয়- আধুনিক দৃষ্টিসম্পন্ন নতুন চিন্তাধারার।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
🔶 ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়- ‘সংবাদ প্রভাকর’ (১৮৩১) ও ‘সংবাদ রত্নাবলী’ (১৮৩২)।
প্যারিচাঁদ মিত্র
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
🔶 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়- ‘বঙ্গদর্শন’ (১৮৭২) পত্রিকা।

১৪. কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের রচনা?
✅ কমলে কামিনী
[খ] চক্ষুদান
[গ] বিধবা বিবাহ
[ঘ] ভদ্রার্জুন

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
কমলে কামিনী
🔶 বাংলা সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রের (১৮৩০-১৮৭৩ খ্রি)উল্লেখযোগ্য নাটক- ‘কমলে কামিনী’ (১৮৭৩)।

১৫. কোন গ্রন্থটি মহাকাব্য?
[ক] অবকাশ রঞ্জিনী
✅ বৃত্র সংহার
[গ] বিরহ বিলাপ
[ঘ] বীরাঙ্গনা কাব্য

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
বৃত্র সংহার
🔶 কিছু বিখ্যাত মহাকাব্য- বৃত্রসংহার (১ম ও ২য় খন্ড), রামায়ণ (বাল্মীকি), মহাভারত (বেদব্যাস), মেঘনাদবধ (মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ১৮৬১), হেমচন্দ্র, (১৮৭৫ ও ১৮৭৭), মহাশ্মশান (কায়কোবাদ, ১৯০৪), ইলিয়াড (হোমার), প্যারাডাইস লস্ট (মিল্পন) ইত্যাদি।
🔶 কোনো জাতির উত্থান-পতনের কাহিনী ওজস্বী ছন্দে বর্ণিত সাহিত্যকর্ম হলো- মহাকাব্য।
🔶 ‘বৃত্রসংহার’ মহাকাব্যের উপজীব্য- ‘বৃত্র’ নামক অসুর কর্তৃক স্বর্গবিজয় ও দেবরাজ ইন্দ্র কর্তৃক স্বর্গের অধিকার পুনঃস্থাপন ও বৃত্তাসুরের নিধনই।
অবকাশ রঞ্জিনী
🔶 নবীনচন্দ্র সেনের কাব্যগ্রন্থ- ‘অবকাশ রঞ্জিনী’।
বিরহ বিলাপ
🔶 কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিলাপ’।
বীরাঙ্গনা কাব্য
🔶 মাইকেল মধুসূদনের এগারোটি পূর্ণপত্রে রচিত পত্রকাব্য- ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’।
🔶 প্রথম বাংলা শিল্পসার্থক মহাকাব্য- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’।
🔶 ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রচিত হয়েছে- রামায়ণ-এর কাহিনী নিয়ে।
🔶 মাইকেল মধুসূদন বাংলা ছাড়া পারদর্শী ছিলেন- গ্রীক, ল্যাটিন, সংস্কৃত, হিব্রু, ফারসি, জার্মান, ইতালিয়ান, তামিল ও তেলেগু ভাষায়।

১৬. বত্রিশ সিংহাসন কার রচনা?
✅ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
[খ] রামরাম বসু
[গ] বিদ্যাসাগর
[ঘ] রাজীব লোচন মুখোপাধ্যায়

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
🔶 ভাষাবিদ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) ছিলেন- উইলিয়াম কেরির অধীন পন্ডিত।
🔶 তিনি অধ্যাপনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত ছিলেন- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে।
🔶 তিনি উইলিয়াম কেরির উৎসাহে রচনা করেন- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
রামরাম বসু
🔶 রামরাম বসু (১৭৫৭-১৮১৩) ছিলেন- উইলিয়াম কেরির সহযোগী পাঠ্যপুস্তক রচনাকারীদের অন্যতম অগ্রণী।
🔶 তিনি দুটি গদ্যগ্রন্থ রচনা করেন- রাজা প্রতাপাদিত্যচরিত্র (১৮০১) ও লিপিমালা (১৮০২)।
বিদ্যাসাগর
🔶 বাংলা গদ্যের অবয়ব নির্মাণ, শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সংস্কারে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১)।
🔶 তার কিছু সাহিতকর্ম- বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), শকুন্তলা (১৮৫৪), সীতার বনবাস (১৮৬০), আখ্যানমঞ্জুরী (১৮৬৩), ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯) ইত্যাদি।

১৭. ‘ঠকচাচা’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
[ক] হুতোম প্যাঁচার নক্সা
✅ আলালের ঘরের দুলাল
[গ] সধবার একাদশী
[ঘ] বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’-এর একটি প্রধান চরিত্র- ‘ঠকচাচা’ চরিত্রটি।
🔶 এ উপন্যাসের অন্য প্রধান চরিত্র হলো- বাঞ্ছারাম ও বাবু রাম বাবু।

১৮. ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’ কোন জাতীয় রচনা?
[ক] নাটক
[খ] কাব্য
✅ আত্মজৈবনিক উপন্যাস
[ঘ] গীতি কবিতার সংকলন

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 মুসলমান নাট্যকার মীর মশাররফ হোসেন রচিত ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’- একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
🔶 এ উপন্যাসের উপজীব্য হলো- নীলচাষ ও নীল বিদ্রোহ। এখানে তিনি নিজ মনের কথা উপন্যাসের আঙ্গিকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

১৯. ‘তাজকেরাতুল আওলিয়া’ অবলম্বনে ‘তাপসমালা’ কে রচনা করেন?
[ক] মুন্সী আব্দুল লতিফ
[খ] কাজী আকরাম হোসেন
✅ গিরিশচন্দ্র সেন
[ঘ] শেখ আব্দুল জববার

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 গিরিশচন্দ্র সেন ‘তাপসমালা’ গ্রন্থটি রচনা করেন- শেখ ফরীদুদ্দীন সাত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত ‘তাজকেরাতুল আওলিয়া’ অবলম্বনে।
🔶 গ্রন্থটিতে ছয় খন্ডে বর্ণিত হয়েছে- ছয়ানববই জন সুফী দরবেশের জীবনী।

২০. কোন নাটকটি সেলিম আল দীনের?
✅ মুনতাসীর ফ্যান্টাসী
[খ] পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
[গ] কবর
[ঘ] বহুব্রীহি

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসী
🔶 বিশিষ্ট নাট্যকার সেলিম আলদীনের একটি প্রতীকাশ্রয়ী কৌতুক নাটক- ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসী’।
🔶 নাট্যকার তার নাট্যচর্চার শুরুর দিকে লেখা এ নাটকটির নাম ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসী’ রাখলেও পরে নামকরণ করেন- ফ্যান্টাসী বাদ দিয়ে শুধুই ‘মুনতাসীর’।
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
🔶 সৈয়দ শামসুল হকের নাটক- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’।
কবর
🔶 মুনীর চৌধুরীর নাটক- ‘কবর’ (১৯৬৬) ।
বহুব্রীহি
🔶 হুমায়ুন আহমেদের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম- ‘বহুব্রীহি’।

২১. ‘দারিদ্র্য’ কবিতাটি নজরুল ইসলামের কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
[ক] সাম্যবাদ্য
[খ] বিষের বাঁশী
✅ সিন্ধু হিল্লোল
[ঘ] নতুন চাঁদ

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত- ‘দারিদ্র্য’ কবিতাটি।
🔶 কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়- ১৯২৫ সালে।

GK - সাধারণ জ্ঞান বাংলা বিষয়াবলী প্রশ্ন ও উত্তর-৩৬ | General Knowledge in Bangla Update MCQ. GK-Bangla-Literature-BCS-and-Govt-Job-Preparation

২২. কোন শব্দটি ফারসি?
[ক] মুসাফির
[খ] তকদির
✅ পেরেশান
[ঘ] মজলুম

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
পেরেশান
🔶 ‘পেরেশান’ শব্দটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ- উদ্বিগ্ন বা চিন্তিত।
মুসাফির
🔶 ‘মুসাফির’ শব্দটি আরবি শব্দ, যার অর্থ- বিদেশে ভ্রমণকারী ব্যক্তি।
তকদির
🔶 ‘তকদির’ শব্দটি আরবি শব্দ, যার অর্থ- অদৃষ্ট, নসিব বা ভাগ্য।
মজলুম
🔶 ‘মজলুম’ শব্দটিও আরবি শব্দ, যার অর্থ- অত্যাচারিত।

২৩. উপসর্গ কোনটি?
✅ অতি
[খ] থেকে
[গ] চেয়ে
[ঘ] দ্বারা

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 একটি সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ- ‘অতি’। এটা অধিক, অতিক্রান্ত, অনুচিত ইতাদি অর্থে বাক্যে যুক্ত করা হয়।
🔶 থেকে, চেয়ে ও দ্বারা হচ্ছে- অব্যয় পদ।

২৪. দাপ্তরিক কোন শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত?
[ক] আইন
[খ] দাখিল
✅ এজেন্ট
[ঘ] মুচলেকা

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
এজেন্ট
🔶 ‘এজেন্ট’ (agent) শব্দটি এসেছে- ইংরেজি ভাষা থেকে, যার অর্থ শাসক, ব্যবসায়ী বা অন্য কারো প্রতিনিধি বা উকিল।
আইন
🔶 ‘আইন’ শব্দটি এসেছে- ফারসি ভাষা থেকে, যার অর্থ সরকারি বিধি, বিধান বা কানুন।
দাখিল
🔶 ‘দাখিল’ শব্দটি এসেছে- আরবি ভাষা থেকে যার অর্থ, পেশ বা উপস্থাপন করা।
মুচলেকা
🔶 ‘মুচলেকা’ শব্দটি এসেছে- তুর্কি ভাষা থেকে, যার অর্থ শর্তভঙ্গ করলে দন্ডভোগ করতে হবে, এই মর্মে লিখিত অঙ্গিকার।

২৫. ‘নেমেসিস’ কোন জাতীয় রচনা?
[ক] কাব্য
✅ নাটক
[গ] উপন্যাস
[ঘ] গীতি কবিতা

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 বিশিষ্ট নাট্যকার নূরুল মোমেন (১৯০৬-১৯৮৯) রচিত একটি নিরীক্ষাধর্মী নাটক- ‘নেমেসিস’।
🔶 নূরুল মোমেন অধিক খ্যাতি অর্জন করেন- সামাজিক সংকটের পটভূমিকায় অন্তর্দ্বন্দ্বমূলক নাট্য-চরিত্র অংকন করে। নেমেসিস (১৯৪৮) নাটকটিও এ আলোকেই রচিত।
🔶 তার এরূপ আরো কিছু নাটক- রূপান্তর (১৯৪৭), আলোছায়া (১৯৬২), আইনের অন্তরালে (১৯৬৭) ইত্যাদি।

২৬. ‘তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি’- রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যের কবিতা?
[ক] পূরবী
✅ শেষলেখা
[গ] আকাশ প্রদীপ
[ঘ] সেজূঁতি

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 আলোচ্য অংশটুকু উদ্ধৃত হয়েছে- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষ লেখা’ কাব্যের অন্তর্গত ‘তোমার সৃষ্টির পথ’ কবিতা থেকে।
🔶 কবি কোলকাতায় জোড়াসাঁকোতে থাকাকালীন কবিতাটি রচনা করেন- ১৯৪১ সালের ৩০ জুলাই (১৪ শ্রাবণ ১৩৪৮)।

২৭. ‘জয়গুন’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
[ক] জননী
✅ সূর্য-দীঘল বাড়ী
[গ] সারেং বৌ
[ঘ] হাজার বছর ধরে

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০২ খ্রি) রচিত ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো- ‘জয়গুন’।
🔶 ১৯৬২ সালে রচিত এ উপন্যাসে জয়গুনের সংগ্রামী জীবনের মধ্য দিয়ে তিনি ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছেন- গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক অবস্থা।

২৮. ‘নবান্ন’ শব্দটি কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত?
[ক] সমাস
✅ সন্ধি
[গ] প্রত্যয়
[ঘ] উপসর্গ

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 নবান্ন (= নতুন ধানের অন্ন) শব্দটিতে সমস্যমান পদের অর্থকে না বুঝিয়ে বোঝানো হয়েছে- একটি উৎসবকে। সুতরাং এটি একটি বহুব্রীহি সমাস।
🔶 আবার পূর্বপদে বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য থাকায়- এটি সমানাধিকরণ বহুব্রীহি।

২৯. কোনটির অর্থ পক্ক অর্থে প্রকাশ পায়?
[ক] পাকা বাড়ি
[খ] পাকা রং
[গ] পাকা কাজ
✅ পাকা আম

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 ‘পাকা’ শব্দটি সাধারণত ব্যবহৃত হয়- পক্ক, শুভ্র বা শুক্ল, স্থায়ী, নিপুণ, সম্পূর্ণ, খাঁটি ইত্যাদি হওয়া অর্থে।
🔶 এখানে পক্ক অর্থ বোঝানো হচ্ছে- ‘পাকা আম’ দ্বারা।

৩০. ‘পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল’- পঙক্তির রচয়িতা কে?
✅ মদনমোহন তর্কালংকার
[খ] রামনারায়ণ তর্করত্ন
[গ] বিহারীলাল চক্রবর্তী
[ঘ] কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 মদনমোহন তর্কালঙ্কার কর্তৃক রচিত ‘শিশু শিক্ষা’-এর একটি বিখ্যাত পঙক্তি- ‘পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল’।
🔶 বইটি পাঠ্যপুস্তকরূপে অত্যন্ত জনপ্রিয়- শিশুদের শিক্ষার প্রাথমিক বই হিসেবে।

৩১. ‘বনফুল’ কার ছদ্মনাম?
[ক] প্রমথ চৌধুরী
✅ বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
[গ] যতীন্দ্রমোহন বাগচী
[ঘ] মোহিতলাল মজুমদার

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
🔶 বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বলাইচাঁমুখোপাধ্যায়ের (১৮৯৯-১৯৭৯ খ্রি) ছদ্মনাম- বনফুল।
🔶 এছাড়াও তিনি ভূষিত- ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতেও।
প্রমথ চৌধুরী
🔶 প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর (১৮৬৮-১৯৪৬ খ্রি) ছদ্মনাম- ‘বীরবল’।
যতীন্দ্রমোহন বাগচী ও মোহিতলাল মজুমদার
🔶 বিশিষ্ট কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী (১৮৭৮-১৯৪৮ খ্রি) এবং বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক মোহিতলাল মজুমদারের (১৮৮৮-১৯৫২ খ্রি) বিশেষ কোনো ছদ্মনাম নেই।

৩২. কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস কোনটি?
✅ মৃত্যুক্ষুধা
[খ] আলেয়া
[গ] ঝিলিমিলি
[ঘ] মধুমালা

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 বিদ্রোহী কাজী কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় উপন্যাস- ‘মৃত্যুক্ষুধা’ (১৯৩০)।
🔶 উপন্যাসটি রচিত- ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলনের পটভূমিতে।

৩৩. ‘যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।’ -এটি কোন জাতীয় বাক্য?
[ক] সরল বাক্য
[খ] যৌগিক বাক্য
[গ] মৌলিক বাক্য
✅ মিশ্র বাক্য

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
মিশ্র বাক্য
🔶 যে পূর্ণ বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্য ও এক বা একাধিক অপ্রধান খন্ডবাক্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত থাকে তাকে বলে- মিশ্র বা জটিল বাক্য। যেমন- যারা মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে, তারা পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়।
🔶 সুতরাং আলোচ্য বাক্যটি- মিশ্র বাক্য।
সরল বাক্য
🔶 যে বাক্যে একটিমাত্র উদ্দেশ্য (কর্তা) ও একটিমাত্র বিধেয় (সমাপিকা ক্রিয়া) থাকে, তাকে বলে- সরল বাক্য, যেমন- রনি বল খেলে।
যৌগিক বাক্য
🔶 দুই বা ততোধিক বাক্য যখন ও, এবং, আর, কিন্তু, তথাপি ইত্যাদি অব্যয়ের সাহায্যে যুক্ত থাকে তখন তাকে বলে- যৌগিক বাক্য। যেমন- তুমি ও আমি বাজারে যাব।

৩৪. ‘লাঠালাঠি’-এটি কোন সমাস?
[ক] প্রাদি সমাস
✅ ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
[গ] তৎপুরুষ সমাস
[ঘ] কর্মধারয় সমাস

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
🔶 ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস হলো- যে সমাসে একই রূপ দুটি বিশেষপদ এক সাথে বসে পরস্পর একই জাতীয় কাজ করে। যেমন- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
🔶 লাঠালাঠি = লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ- ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
প্রাদি সমাস
🔶 প্রাদি সমাস হলো- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অবয়ের সাথে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস। যেমন- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ।
তৎপুরুষ সমাস
🔶 তৎপুরুষ সমাস হলো- যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়। যেমন- ঢেঁকিতে ছাঁটা = ঢেঁকিছাটা।
কর্মধারয় সমাস
🔶 কর্মধারয় সমাস হলো- বিশেষণ ও বিশেষ্যপদ মিলে যে সমাস এবং বিশেষ্যের বা পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়। যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

৩৫. ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’-এর রচয়িতা কে?
[ক] ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়
[খ] চন্ডীদাস
✅ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
[ঘ] ভারতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’-এর রচয়িতা- বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও সুরস্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১ খ্রি)।
🔶 ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়- ১৮৮৪ সালে।

৩৬. প্র, পরা, অপ-
[ক] বাংলা উপসর্গ
✅ সংস্কৃত উপসর্গ
[গ] বিদেশী উপসর্গ
[ঘ] উপসর্গ স্থানীয় অব্যয়

৩৭. টা, টি, খানা ইত্যাদি-
✅ পদাশ্রিত নির্দেশক
[খ] প্রকৃতি
[গ] বিভক্তি
[ঘ] উপসর্গ

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 পদাশ্রিত নির্দেশক হলো- এক ধরনের অব্যয় বাপ্রত্যয় বিশেষ, যা পদের সংখ্যা বা পরিমাণ প্রকাশ করে। যেমন- টি, টাত, টু, টুকু, টুক, খান, খানা, খানি, গুলি, গুলো ইত্যাদি।
🔶 বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করে- পদাশ্রিত নির্দেশক।

৩৮. কাজী নজরল ইসলাম কোন কবিতা রচনার জন্য কারাবরণ করেন?
[ক] বিদ্রোহী
[খ] প্রলয়োল্লাস
✅ আনন্দময়ীর আগমনে
[ঘ] নারী

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬ খ্রি) কারারুদ্ধ হন এবং এক বছরের জন্য সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হন- ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি রচনার জন্য, ১৯২২ সালে। কবিতাটি ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার পূজা সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
🔶 তিনি ৬ মাস কারাদন্ডে দন্ডিত হন- ‘প্রলয়শিখা’ গ্রন্থের জন্য।
🔶 বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত- কাজী নজরুল ইসলাম।
🔶 তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন- ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনার মাধ্যমে।

৩৯. বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কত সালে?
[ক] ২০০৭
✅ ১৯০৭
[গ] ১৯০৯
[ঘ] ১৯১৬

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে।
🔶 চর্যাপদ আবিষ্কার করেন- মহামহোপাধ্যায় ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
🔶 চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়- নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে।
🔶 চর্যাপদ রচিত হয়েছে- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে।
🔶 চর্যাপদে পদ রয়েছে- সাড়ে ৪৬টি।
🔶 চর্যাপদ প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়- ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে।
🔶 ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় চর্যাপদকে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।
🔶 চর্যাপদ সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়- ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে।

8০. নিচের কোন্টি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম?
[ক] বীরবল
[খ] ভিমরুল
✅ অনিলাদেবী
[ঘ] যাযাবর

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
অনিলাদেবী
🔶 শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘নারীর মূল্য’ ক্ষুদ্র পুস্তিকাটি লিখেছেন- ‘অনিলাদেবী’ ছদ্মনামে।
🔶 শরৎচন্দ্রের উপাধি- ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’।
🔶 শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস- ‘বড়দিদি’ যা ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
🔶 শরৎচন্দ্রের ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত উপন্যাস- ‘পথের দাবী’।
🔶 শরৎচন্দ্রের একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম- ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং।
বীরবল
🔶 ‘বীরবল’ ছদ্মনামটি- প্রমথ চৌধুরীর।
🔶 বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক- প্রমথ চৌধুরী।
🔶 প্রমথ চৌধুরী মাসিক ‘সবুজপত্র’ প্রকাশ করেন- ১৯১৪ খ্রি.।
🔶 বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রুপাত্মক প্রবন্ধ রচনাকারী- প্রমথ চৌধুরী।
🔶 প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা- বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা।
যাযাবর
🔶 ‘যাযাবর’ ছদ্মনামটি- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়-এর।
🔶 বিনয়কৃষ্ণের বিখ্যাত গ্রন্থ- ‘দৃষ্টিপাত’, ‘জনান্তিক’।

8১. ‘আধ্যাত্মিকা’ উপন্যাসের লেখক কে?
✅ প্যারীচাঁদ মিত্র
[খ] বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
[গ] দামোদর বন্দোপাধ্যায়
[ঘ] শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
প্যারিচাঁদ মিত্র (১৮১৪ - ১৮৮৩)
🔶 ‘আধ্যাত্মিকা’ উপন্যাসের লেখক- প্যারিচাঁদ মিত্র।
🔶 ‘আধ্যাত্মিকা’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়- ১৮৮০ খ্রি.।
🔶 বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক- প্যারিচাঁদ মিত্র।
🔶 বাঙালি কর্তৃক রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস- প্যারিচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৭ খ্রি.)।
🔶 প্যারিচাঁদ মিত্রের অন্যান্য রচনা- কৃষিপাঠ, অভেদী, রামারঞ্জিকা, ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত, Agriculture in Bengal প্রভৃতি।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮ - ১৮৯৪)
🔶 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর উপাধি- ‘সাহিত্য সম্রাট’।
🔶 বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস- বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দূর্গেশনন্দিনী’।
🔶 বঙ্কিমের প্রথম উপন্যাস- Rajmohon's wife (১৮৬২ খ্রি.)।
🔶 বঙ্কিমের ছদ্মনাম- ‘কমলাকান্ত’।
🔶 বঙ্কিমের একমাত্র কাব্যগ্রন্থ- ললিতা তথা মানস।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬ - ১৯৩৮)
🔶 শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস- ‘শ্রীকান্ত’।
🔶 শরৎসাহিত্যে নারী উপস্থাপিত হয়েছে- মমতাময়ী সর্বংসহারূপে।
🔶 শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের মূল বিষয়- পল্লীজীবন ও সমাজ।
🔶 শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত রচনা- বিন্দুর ছেলে, পরিণীতা, দেবদাস, চরিত্রহীন, দত্তা, দেনা-পাওনা, বৈকুণ্ঠের উইল প্রভৃতি।

8২. ‘অনীক’ শব্দের অর্থ-
[ক] সূর্য
[খ] সমুদ্র
[গ] যুদ্ধক্ষেত্র
✅ সৈনিক

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
সৈনিক
🔶 অনীক শব্দের অর্থ- সৈনিক।
🔶 সৈনিক শব্দের প্রতিশব্দ- অনীক, সেনানী, সৈন্য, সামন্ত।
সূর্য
🔶 সূর্যের প্রতিশব্দ- আদিত্য, প্রভাকর, দিবাকর, তপন, দিনেশ, দিননাথ, দিনপতি, অরুণ, ভাস্বর, বানু, মাতন্ড, পুষা, সবিতা, মিহির, রবি, মিত্র।
সমুদ্র
🔶 সমুদ্রের প্রতিশব্দ- অর্নব, সিন্ধু, পাথার, বারিধি, সাগর, জলধি, উদধি, পয়োবি, অম্বুপতি, অম্বুধি, বারীশ, রত্নাকর, পারাবার।
যুদ্ধক্ষেত্র
🔶 যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিশব্দ- রণক্ষেত্র, লড়াইক্ষেত্র, সমরক্ষেত্র, আহরক্ষেত্র, বিগ্রহক্ষেত্র, সংগ্রামক্ষেত্র।

8৩. জ্যোৎস্নারাত কোন্ সমাসের দৃষ্টান্ত?
✅ মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
[খ] ষষ্ঠী তৎপুরুষ
[গ] পঞ্চমী তৎপুরুষ
[ঘ] উপমান কর্মধারয়

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
মধ্যপদলাপী কর্মধারয়
🔶 জ্যোৎস্নারাত- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত।
🔶 পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুই বা ততোধিক পদের একপদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে- সমাস।
🔶 যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায় তাকে বলে- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
🔶 উদাহরণ- দুধভাত, পলান্ন, সিংহাসন ইত্যাদি।
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
🔶 যে তৎপুরুষ সমাসে ষষ্ঠী বিভক্তি (র, এর) লোপ পায় তাকে বলে- ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
🔶 ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসকে বর্তমানে বলে- সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস।
🔶 উদাহরণ- নদীতট, রাজপুত্র, ধানক্ষেত, গৃহকর্তা, বনফুল, মধুবন ইত্যাদি।
পঞ্চমী তৎপুরুষ
🔶 যে তৎপুরুষ সমাসে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে, চেয়ে, অপেক্ষা) লোপ পায় তাকে বলে- পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।।
🔶 পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের বর্তমান নাম- অপাদান তৎপুরুষ সমাস।
🔶 উদাহরণ- কারামুক্ত, কৃষিজাত, দেশছাড়া, রোগমুক্তি, দুগ্ধজাত ইত্যাদি।
উপমান কর্মধারয়
🔶 যে কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদে একটি উপমান-বিশেষ্য (যার সঙ্গে তুলনা করা হয়) ও পরপদে একটি সাধারণ ধর্মবোধক বিশেষণ পদ থাকে তাকে বলে- উপমান কর্মধারয় সমাস।
🔶 উদাহরণ- কাজলকালো, তুষারশুভ্র, রক্তলাল, তুষারধবল, বরফশীতল, শশব্যস্ত ইত্যাদি।

8৪. Anatomy শব্দের অর্থ-
[ক] সাদৃশ্য
[খ] স্নায়ুতন্ত্র
✅ শারীরবিদ্যা
[ঘ] অঙ্গ-সঞ্চালন

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
শারীরবিদ্যা
🔶 Anatomy শব্দের অর্থ- ‘শারীরবিদ্যা’ অর্থাৎ জীবদেহের গঠনসংক্রান্ত বিজ্ঞান অথবা ‘অঙ্গব্যবচ্ছেদ বিদ্যা’।
🔶 যে ব্যক্তি শব ব্যবচ্ছেদ করে বা জীবদেহের গঠন বিষয়ে অধ্যয়ন বা অধ্যাপনা করে তাকে বলে- Anatomist.
সাদৃশ্য
🔶 সাদৃশ্য শব্দের ইংরেজি- Similarity.
🔶 সাদৃশ্যের প্রতিশব্দ- সমধর্মিতা, সদৃশ দিক বা বিষয়।
স্নায়ুতন্ত্র
🔶 স্নায়ুতন্ত্রের ইংরেজি- The reneous system.
অঙ্গ-সঞ্চালন
🔶 অঙ্গ-সঞ্চালনের ইংরেজি- Vinesioloty।

8৫. ‘আফতাব’ শব্দের সমার্থক কোন্টি?
[ক] অর্ণব
[খ] রাতুল
✅ অর্ক
[ঘ] জলধি

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
অর্ক
🔶 ‘আফতাব’ শব্দের সমার্থক শব্দ- অর্ক, সূর্য, দিনবসু, দিনকর, দিনপতি, বালার্ক, আদিত্য।
অর্ণব
🔶 ‘অর্ণব’ শব্দের সমার্থক শব্দ- সমুদ্র, জলধি, সাগর, বারীন্দ্র, বারিনিধি, পারাবার।
জলধি
🔶 ‘জলধি’ শব্দের সমার্থক শব্দ- সমুদ্র, সিন্ধু, বারিধি, রত্নাকর, জলনিধি, পয়োধি, পাথার।

8৬. কোন্ কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন?
[ক] গোবিন্দ দাস
[খ] কায়কোবাদ
[গ] কাহ্ন পা
✅ ভুসুকু পা

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
ভুসুকুপা
🔶 নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন- ভুসুকুপা।
🔶 ভুসুকুপা চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বাধিক- ৮টি পদ রচয়িতা।
🔶 চর্যাপদের অন্যান্য বাঙালি কবি হচ্ছেন- লুইপা, কুক্কুরীপা, বিরূপা, ডোম্বীপা, শবরপা, ধর্মপা ও জয়ন্দীপা।
গোবিন্দ দাস
🔶 গোবিন্দ দাস পরিচিত- স্বভাব কবি হিসেবে।
🔶 আধুনিক যুগের গীতিকবি বলা হয়- গোবিন্দ দাসকে।
🔶 গোবিন্দ দাস ১৮৮৭-৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেন- মাসিক পত্রিকা ‘বিভা’।
🔶 গোবিন্দ দাসের উল্লেখযোগ্য রচনা- মগের মুল্লুক, প্রসূন, প্রেম ও ফুল, চন্দন প্রভৃতি।
কায়কোবাদ
🔶 কায়কোবাদের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
🔶 কায়কোবাদের প্রথম কাব্য- ‘বিরহবিলাস’।
🔶 কায়কোবাদের বিখ্যাত মহাকাব্য- ‘মহাশ্মশান’।
🔶 কায়কোবাদের অন্যান্য রচনা- কুসুম কানন, অশ্রুমালা, মহাশ্মশান, অমিয়ধারা প্রভৃতি।
কাহ্নপা
🔶 চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা- কাহ্নপা।
🔶 কাহ্নপা পদ রচনা করেন- ১৩টি।
🔶 পাওয়া যায়নি- কাহ্নপা রচিত ২৪নং পদটি।

8৭. বাগাড়ম্বর শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ-
[ক] বাগ + অম্বর
[খ] বাগ + আড়ম্বর
[গ] বাক্ + অম্বর
✅ বাক্ + আড়ম্বর

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 বাগাড়ম্বর শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর।
🔶 ‘বাগাড়ম্বর’ শব্দটি- ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
🔶 এটির সন্ধি বিচ্ছেদ হবে- ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি নিয়মে।
🔶 ক্, চ্, ট্,ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো হয় যথাক্রমে- গ্, জ্, ড্ (ড়্), দ্, ব্।
🔶 পরবর্তী স্বরধ্বনিটি যুক্ত হয়- পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে। যেমন :
দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
ষট্ + আনন = ষড়ানন

8৮. সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,/ সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি- এই চরণদ্বয়ের লেখক-
[ক] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
[খ] কুসুমকুমারী দাস
✅ মদনমোহন তর্কালঙ্কার
[ঘ] কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার (১৮১৭ - ১৮৫৮)
🔶 সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি/সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি- এই চরণদ্বয়ের লেখক- মদনমোহন তর্কালঙ্কার।
🔶 মদনমোহনের পারিবারিক উপাধি- ‘চট্টোপাধ্যায়’।
🔶 মদনমোহন স্থাপিত ছাপাখানা- ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’।
🔶 কবি প্রতিভার জন্যে সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপকগণ কর্তৃক উপাধি পান- ‘কাব্যরত্নাকর’ ও ‘তর্কালঙ্কার’।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১ - ১৯৪১)
🔶 রবীন্দ্রনাথের প্রথম মুদ্রিত কবিতা- ‘অভিলাষ’ অন্যথায় ‘ভারতভূমি’।
🔶 রবীন্দ্রনাথের প্রথম দুটি উপন্যাস- ‘বউঠাকুরানীর হাট’ ও ‘রাজর্ষি’।
🔶 রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পান- ইংরেজি গীতাঞ্জলীর জন্যে।
🔶 ইংরেজি গীতাঞ্জলির নাম- Song offerings।
🔶 Song offerings-এর ভূমিকা লেখেন- ইংরেজ কবি ইয়েটস।
🔶 রবীন্দ্রনাথ ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন- ১৯১৯ খ্রি. কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে (উপাধি পান ১৯১৫ খ্রি.)।
🔶 রবীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য রচনাবলী- মানসী, সোনার তরী, সেজুতি, ডাকঘর, চিরকুমার সভা, রক্তকরবী, বিসর্জন, ঘরে বাইরে।
🔶 রবীন্দ্রনাথ রচিত প্রথম উপন্যাস- করুণা।
🔶 বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতটির রচয়িতা- রবীন্দ্রনাথ।
🔶 রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত কাব্য- কবিকাহিনী (১৮৭৮)।
🔶 রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত কবিতা- ‘হিন্দুমেলার উপহার’, ১৩ বছর বয়সে।
🔶 রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প- ভিখারিনী (১৮৭৪)।
🔶 রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ- ‘বিবিধ প্রসঙ্গ’ (১৮৮৩)।
🔶 রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন- ১৯০১ সালে।
🔶 রবীন্দ্রনাথ সম্পাদিত পত্রিকা- সাধনা (১৮৯৪), ভারতী (১৮৯৮), বঙ্গদর্শন (১৯০১), তত্ত্ববোধিনী (১৯১১)।
🔶 রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ- ‘শেষ লেখা’ (কবিতা)।
🔶 রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের কয়েকটি কাব্য- ‘রোগশয্যায়’ (১৯৪০), ‘আরোগ্য’ (১৯৪১), ‘জন্মদিনে’ (১৯৪১), ‘শেষ লেখা’ (১৯৪১)।
🔶 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম গদ্য কাব্যগ্রন্থ- পুনশ্চ।
🔶 অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রনাথ ডি-লিট উপাধি পান- ১৯৩৬ সালে।
🔶 রবীন্দ্রনাথ মোট উপন্যাস রচনা করেন- ১৩টি।
🔶 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ- কালান্তর (১৯৩৭), সভ্যতার সংকট (১৯৪১), পঞ্চভূত (১৮৯৭), সাহিত্য (১৯০৭)।
🔶 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রনাথকে ডি-লিট উপাধি দেয়- ২৯-এ জুলাই ১৯৩৬।
কুসুমকুমারী দাস
🔶 ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’ বিখ্যাত উক্তিটি- কুসুমকুমারী দাসের।
🔶 কবি জীবনানন্দ দাসের মা- কুসুমকুমারী দাস।
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪ - ১৯০৭)
🔶 ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে কি পারে’- উক্তিটি- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার-এর।
🔶 বাল্যকালে তাঁর ছদ্মনাম ছিল- রামচন্দ্র দাস বা রাম।
🔶 কবির আত্মচরিত রচনা- ‘রামের ইতিবৃত্ত’।
🔶 কৃষ্ণচন্দ্র যেসব পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- ঢাকা প্রকাশ, মনোরঞ্জিকা, কবিতা কুসুমাবলী, বিজ্ঞাপনী, দ্বৈভাষিকী।
🔶 কবির উল্লেখযোগ্য রচনাবলী- সদ্ভাবশতক, কৈবল্যতত্তব, রাবণবধ প্রভৃতি।
🔶 মহাভারতের ‘বাসব-নহুষ-সংবাদ’ অবলম্বনে রচনা করেন- ‘মোহভোজ’।
🔶 পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচনা করেন- ‘সদ্ভাবশতক’।

8৯. ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ কী জাতীয় রচনার সংকলন?
✅ রূপকথা
[খ] ছোটগল্প
[গ] গ্রাম্যগীতিকা
[ঘ] রূপকথা-উপকথা

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ একটি- রূপকথা।
🔶 ইংরেজিতে রূপকথা বা পরীকথাকে বলে- Fairy Tales।
🔶 ঠাকুরমার ঝুলি ও ঠাকুরদাদার ঝুলি-র সংগ্রাহক- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
🔶 বাংলা রূপকথার স্রষ্টা- উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী।

৫০. বাংলা ভাষায় ছন্দ প্রধানত কত প্রকার?
[ক] ২
[খ] ৪
✅ ৩
[ঘ] ৫

☂ প্রশ্ন বিশ্লেষণ:
🔶 বাংলা ছন্দ তিন রকমের- ক. মাত্রাবৃত্ত খ. স্বরবৃত্ত ও গ. অক্ষরবৃত্ত।
🔶 প্রথম মাত্রাবৃত্ত ছন্দ পরিলক্ষিত হয়- চর্যাপদে।
🔶 এছাড়াও মাত্রাবৃত্তে রচিত গ্রন্থ- বৈষ্ণব পদাবলি, মানসী, অগ্নিবীণা ইত্যাদি।
🔶 মাত্রাবৃত্ত ছন্দ- রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি।
🔶 স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত গ্রন্থ- গোপীচন্দ্রের গান, শ্যামাসঙ্গীত, বাউল পদ, পাঁচালি, ময়মনসিংহ গীতিকা ইত্যাদি।
🔶 অক্ষরবৃত্ত ছন্দে অনুবাদিত গ্রন্থ- রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি।
🔶 বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
🔶 এছাড়াও বংলা কাব্যে বিদ্যমান- ধামালি, ভঙ্গপয়ার, ললিত, দিগক্ষরা, মহাপয়ার, পয়ার ইত্যাদি ছন্দ।

0 Please Share Your Opinion: